মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

পত্নীতলা উপজেলার পটভুমি

উৎপত্তি: ১৮০৭ সালে  এই থানা স্থাপিত হয়। ১৯৬০ সালে থানা উন্নয়ন সার্কেল হিসেবে এবং ১৯৮৩ সালে উপজেলায় রূপান্তরিত হয়।আবার থানার ক্রমবিবর্তনের ইতিহাস আলোচনা করলে দেখা যায় যে,পত্নীতলা থানা ইতিপূর্বে পশ্চিম দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত ছিল।১৯১১-১৯১২ সালের দিকে পত্নীতলা থানার উত্তর পূর্বাঞ্চল নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ধামইরহাট থানা। ১৯৪৭ এর র‌্যাডক্লিফ রোয়েদাদ অনুযায়ি দেশ বিভাগের পর পত্নীতলা থানা বগুড়া জেলার অন্তর্গত হয়।১৯৪৯ সালে পত্নীতলা থানা রাজশাহী জেলার নওগাঁ মহকুমার সাথে যুক্ত হয়।অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারত বর্ষে ওয়ারেন্ট হেষ্টিংস এর  সময় কালে থানার নাম করন প্রবর্তন হয়।সে সময় পুলিশ ষ্টেশন কেবল মাত্র অপরাধ দমন কার্যক্রম চালাতো।পরবর্তীতে এর কলেবর বৃদ্ধি করে থানার উন্নয়নমুখী কার্যক্রমের জন্য থানা উন্নয়ন সার্কেল হিসেবে পৃথক ভাবে অফিস স্থাপন করে কার্যক্রম শুরু হয়।থানা উন্নয়ন সার্কেল পরবর্তীতে আপগ্রেড থানা বা মানউন্নীত থানা হিসাবে রূপান্তরিত হয় এবং সর্বশেষ ১৯৮৩ সালে উপজেলা প্রশাসন বিকেন্দ্রীরকরণের মাধ্যমে উপজেলা হিসাবে পরিগণিতবর্তমান নজিপুর পৌরসভার অন্তর্গত হরিরামপুর মৌজার,খতিয়ান নং-আর .এস ৩/১,দাগ নং-৫৪,জমির পরিমান-৪.৩৮ একর ও ৫৫৯ নং দাগে ০.১২ একর মোট ৪.৫০ একর জমিতে উপজেলা পরিষদ ভবন,অডিটরিয়াম ও অন্যান্য অফিস সমূহ অবস্থিত এবং চকনিরখীন মৌজার খতিয়ান নং-১,দাগ নং-৩২১ জমির পরিমান-৮.৪০ একর, দাগ নং ৩২২  জমির পরিমান ০.৩২ একর, মোট-৮.৭২ একর জমিতে উপজেলা কোয়াটার, উপজেলা চেয়ারম্যান কোয়াটার,মাঠ,পুকুর এবং বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন  কর্তৃপক্ষ এর অফিস ও বি.আর.ডি.বি অফিস রয়েছে। নওগাঁ জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৯ কিলোমিটার উত্তরে পত্নীতলা উপজেলা পরিষদ অবস্থিত।উত্তর গোলার্ধের ২৪.৫৮ থেকে ২৫.৮ অক্ষাংশে এবং ৮৮.৪২ থেকে ৮৮.৫২ দ্রাঘিমাংশ জুড়ে এর অবস্থান।

 

উত্তরে ধামইরহাট উপজেলা ও ভারত সীমানা ,দক্ষিনে মহাদেবপুর,পূর্বে বগলগাছী এবং পশ্চিমে সাপাহার উপজেলা অবস্থিত। পত্নীতলা উপজেলার মধ্যদিয়ে আত্রাই নদী এবং পূর্ব পার্শ্ব দিয়ে ছোট যমুনা  নদী প্রবাহিত হয়েছে।এ ছাড়া মনোহর গংগা সহ কিছু কিছু ছোট খাড়ী রয়েছে। এখান থেকে সড়ক পথে যোগাযোগ রাজধানী শহর ঢাকার সাথে যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে।এছাড়া জেলা সদর, বগুড়া এবং বিভাগীয় শহর রাজশাহীর সাথে সড়ক পথে বাস যোগে যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে।

 

নামকরন: পত্তনীতোলা,পাঠানতোলা কিংবা পাটনীতোলা ক্রমশ রূপান্তরিত হয়ে বর্তমানে পত্নীতলা নামটি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নাম করনের পিছনে অনেক জনশ্রুতি রয়েছে। কথিত আছে পাঠান রাজত্বকালে বরেন্দ্র এলাকার অনেক পরগণা পাঠান জামিদারদের অধীন ছিল। পাঠান নৃপত্তি বা রাজ কর্মচারীগণ বর্তমান পত্নীতলা বাজারে  অবস্থান করে জমি পত্তন দেওয়ার কাজ সমাধা করতেন। পত্তন শব্দ থেকে পত্তনী এবং ক্রমে পত্তনীতোলা বা পাঠানতোলা নামে এতদঞ্চলে অভিহিত হতে থাকে।তাছাড়া কথিত আছে যে,তাহির রাজবংশে জনৈক পূর্ব পুরুষ শ্যযুক্ত কংশ নারায়ন তাহিরপুরের এক মুসলমান জমিদারের নিকট থেকে পরগনা কেড়ে নিয়ে একটি কালি মন্দির পত্তন করে। অপরাপর হিন্দু জমিদার ও এ মন্দিরের নামে জমি পত্তন দিতেন ক্রমে জায়গাটি পত্তনীতোলা নামে পরিচিত হয়। এছাড়া জনশ্রুতি রয়েছে যে,পাঠান শাসন আমলে আত্রাই নদীতে খেয়া পারাপারের জন্য সুদুর বিহারের দার ভাংগা থেকে কিছু সংখ্যাক পাটনী সম্প্রদায়ের লোক এসে বসবাসের জন্য একটি টোল বা মহলা স্থাপন করে এবং এলাকার নাম পাটনীটোলা বলে অভিহিত হয়। উলেখ্য যে,পাটনী সম্প্রদায়ের কিছু লোক এখন ও আত্রাই নদীতে খেয়া পারাপারের কাজে নিয়োজিত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছে।মোট কথা পত্নীতলা উপজেলার নামের মধ্যেই প্রকৃত ইতিহাস লুকায়ে রয়েছে।